ফ্রিল্যান্সার ‘মুগ্ধ’কে নিয়ে ‘বন্ধ’ ফেসবুকেও ‘শোকগাঁথা’
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএর শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক শেষে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করতেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত ছিলেন ‘মীর’ মুগ্ধ নামে। দেশপ্রেম আর মানবতায় টইটম্বুর এই ‘জমজ’ তরুণ জড়িত ছিলেন স্কাউটিংয়েও। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনে চলাকালে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঝড়ে গেছেন তিনি। সহদর স্নিগ্ধ থেকে বৃন্তচ্যুত হয়েছেন।
তাকে নিয়ে বিল্লাহ মাসুম লিখেছেন, “নাম তার মুগ্ধ। নামটা যেমন সুন্দর তেমন তার কাজকর্মও। মুগ্ধতা ছড়িয়ে শহীদ হয়েছে ,ছেলেটা যখন সবার জন্য পানি ও চিপস বিতরণ করেছিলো সে অবস্থায় সে শহীদ হয়।”
আইটি প্রফেশনাল মোহাম্মাদ ইকরাম লিখেছেন, “শহীদ মুগ্ধর ফ্রিল্যান্সিং প্রোফাইলটা দেখলাম।
তার আইডি দেখে সহজেই ধারণা করা যায় এই দেশকে অন্তত ৫০,০০০$-৬০,০০০$ বৈদেশিক মুদ্রা এনে দিয়েছিলো সে। ১০০০+ রিভিউ সাথে এভারেজে ৫★ মেইন্টেইন করা। এতো ছোট বয়সে দেশের অর্থনীতিতে এরকম অবদান কয়জন রাখতে পারে? কত কিছু লিখতে মন চায়, কিন্তুু ব্যাক স্পেস দিয়ে মুছে দিতে হয়। এটাই কি স্বাধীনতার আসল স্বাদ?”
মূলতঃ মুগ্ধ ছিলেন দক্ষ ফ্রিল্যান্সারও। ফ্রিল্যান্স প্ল্যাটফর্মে তার আইডির স্ক্রিনশট শেয়ার দিয়ে সাফল্য নিয়ে ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করছেন অনেকে। ওই আইডিতে দেখা যাচ্ছে, মুগ্ধর কাজে খুশি হয়ে এক হাজার ৮৮ জন ক্লায়েন্ট রিভিউ দিয়েছেন। তার ওভার অল রেটিং ৫। সেলার কমিউনিকেশন লেভেল রেটিংও ৫। রিকমেন্ড টু অ্যা ফ্রেন্ড এবং সার্ভিস অ্যাজ ডেসক্রাইব রেটিংও দেখা যাচ্ছে ৫।
মুগ্ধর কাজে খুশি হয়ে জার্মানির একজন ক্লায়েন্টের মন্তব্য সবার ওপরে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘তার কাজে খুবই সন্তুষ্ট। তিনি খুব দ্রুততম সময়ে কাজ করেন এবং যে কোনো সমস্যায় সাহায্য করেন। সত্যিই তার কাছ থেকে কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য সুপারিশ করছি। ধন্যবাদ।’
মুগ্ধর ফিল্যান্সিংয়ের ওই আইডি শেয়ার দিয়ে আব্দুল্লাহ আল জাবের নামে একজন লিখেছেন, ‘চিন্তা করা যায়? এই ছেলে রাষ্ট্রকে কমপক্ষে ৪০-৫০ হাজার ডলার এনে দিয়েছে ফ্রিল্যান্সিং করে। যারা ফ্রিল্যান্সিং করে, তারা জানে ৫ রেটিংটা আসলে কী। তাও আবার ১০৮৮ রিভিউ ধরে রাখা কত চ্যালেঞ্জিং বিষয়! সে রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মারাত্মক লেভেলের অবদান রেখেছে! আর রাষ্ট্র তার সঙ্গে কী করলো?!’
রোকনুজ্জামান এমডি নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘মুগ্ধর ফ্রিল্যান্সিং প্রোফাইলটাই বলে সে কতটা ট্যালেন্টেড ফ্রিল্যান্সার ছিল। তার আইডি দেখে সহজেই ধারণা করা যায় এ দেশকে অন্তত ৫০-৬০ হাজার ডলার বৈদেশিক মুদ্রা এনে দিয়েছিল সে। ১০০০+ রিভিউ, সঙ্গে এভারেজ ৫ রেটিং মেইনটেইন করা। একজন মুক্ত পেশাজীবী হিসেবে সরকারি চাকরিতে কোটার জন্য তার আন্দোলনে যাওয়া লাগে না। তারপরও এ আন্দোলনে শরিক হয়েছিল, দেশের সব নাগরিকের সমমর্যাদার জন্য। ফলাফল হচ্ছে, ঘাতকের বুলেট তার জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে। এত ছোট বয়সে দেশের অর্থনীতিতে এরকম অবদান কয়জন রাখতে পারে?’
তাসকিন এ আনাস লিখেছেন, নতুন ৭ বীর শ্রেষ্ঠ কি এভাবেই আসবে?
সতীর্থদের বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ বলছে, ১৮ জুলাই রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পিপাসার্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পনি ও বিস্কুট নিয়ে রাস্তায় ছিলেন মুগ্ধ। গুলিবিদ্ধ হওয়ার কিছুক্ষন আগেও দৌড়ে দৌড়ে বলছিলেন, ‘কারও পানি লাগবে ভাই? পানি লাগলে নেন।’ বন্ধ সোশ্যাল মিডিয়ায় একে একে বেরিয়ে আসছে তার কীর্তির কথা। হতবিহ্বলতা প্রকাশ করছেন বুলেটে জীবন খোয়ানো এই তরুণের পরিবার, সহপাঠী ও বন্ধুরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক স্ক্রল করলেই সামনে আসছে তাকে নিয়ে লেখা নানান স্মৃতিচারণামূলক পোস্ট।







